
বাতিলের আগে NID ও পাসপোর্টের নম্বর মিলিয়ে নিন।
ডুপ্লিকেট নিবন্ধন কীভাবে তৈরি হয়?
একাধিক জন্ম নিবন্ধন সাধারণত ইচ্ছাকৃত জালিয়াতি নয় — বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি হয় ভুল বা অসাবধানতার কারণে। ঠিকানা পরিবর্তন করে নতুন এলাকায় আবার আবেদন, তথ্যে ভুল থাকায় সংশোধনের বদলে নতুন আবেদন, অথবা এজেন্টের মাধ্যমে না জেনে দ্বিতীয় নিবন্ধন — এগুলোই প্রধান কারণ। অক্টোবর ২০২৬-এর সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশে ২৪.৮৮ কোটি জন্ম নিবন্ধন হয়েছে, যেখানে জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি — এই বিশাল পার্থক্যই বলে দেয় ডুপ্লিকেট সমস্যা কতটা ব্যাপক।
আপনার কি একাধিক নিবন্ধন আছে? যাচাই করুন
নিশ্চিত হওয়ার সহজ উপায়: আপনার মনে থাকা প্রতিটি নম্বর everify.bdris.gov.bd-তে যাচাই করে দেখুন। একাধিক নম্বরে আপনার নামে রেকর্ড পাওয়া গেলে বুঝবেন ডুপ্লিকেট আছে। এরপর দেখুন আপনার NID, পাসপোর্ট, শিক্ষা সনদ বা ব্যাংক হিসাবে কোন নম্বরটি ব্যবহার হয়েছে — সেটিই আপনার রাখার যোগ্য নম্বর।
- পুরনো সব সনদের ফটোকপি এক জায়গায় জড়ো করুন
- প্রতিটি নম্বর everify-তে যাচাই করুন
- NID, পাসপোর্ট ও শিক্ষা সনদে কোন নম্বর আছে তা লিখে রাখুন
- যে নম্বরে সবচেয়ে বেশি কাগজপত্র ইস্যু হয়েছে, সেটি রাখার সিদ্ধান্ত নিন
২০২৩ সালের নিয়মের বিস্তারিত
২০২৩ সালের ৫ জুলাই রেজিস্ট্রার জেনারেলের নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়: একাধিক সনদ থাকলে নাগরিক তার পছন্দের সনদটি রেখে বাকিগুলো বাতিল করতে পারবেন। এর আগে নিয়ম ছিল প্রথম ইস্যুকৃত সনদটিই রাখতে হবে — নতুন নিয়মে এই বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে, যা নাগরিকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেকলিস্ট
কোন সনদ রাখবেন তা ঠিক করার সময় এই তালিকা মিলিয়ে নিন: (১) NID-তে কোন নম্বর? (২) পাসপোর্টে কোন নম্বর? (৩) SSC/HSC সনদে কোন জন্ম তারিখ? (৪) ব্যাংক হিসাবে কোন নম্বর? যে নম্বরের পক্ষে সবচেয়ে বেশি প্রমাণ, সেটিই রাখুন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বাতিলের আবেদনের সময় বাতিলযোগ্য সনদগুলোর কপি সাথে নিন।
বাতিলের পর কী হবে?
অফিস BDRIS সিস্টেম থেকে অতিরিক্ত নিবন্ধনগুলো বাতিল করে দেবে। একবার বাতিল হয়ে গেলে ওই নম্বরগুলো আর কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না — তাই বাতিলের রসিদ বা প্রমাণপত্র যত্ন করে সংরক্ষণ করুন। ভবিষ্যতে কোনো যাচাইয়ে প্রশ্ন উঠলে এই রসিদই আপনার প্রমাণ।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (আরও)
প্রশ্ন: দুটো সনদেই তথ্য আংশিক সঠিক — কী করব?
উত্তর: যেটি রাখতে চান, সেটির তথ্য আগে সংশোধন করে নিন, তারপর বাতিলের আবেদন করুন।
প্রশ্ন: বাতিল করতে কতদিন লাগতে পারে?
উত্তর: অফিসভেদে সময় ভিন্ন হয়। আবেদনের রসিদ নিন এবং প্রয়োজনে খোঁজখবর রাখুন।
প্রশ্ন: বাতিল না করলে কী সমস্যা হবে?
উত্তর: ভবিষ্যতে NID, পাসপোর্ট বা চাকরির যাচাইয়ে জটিলতা হতে পারে। সরকার ডুপ্লিকেট রেকর্ডের নিরীক্ষাও চালাচ্ছে।
ভবিষ্যতে ডুপ্লিকেট এড়াবেন কীভাবে?
একবার সমস্যা মিটে গেলে ভবিষ্যতে যাতে আবার ডুপ্লিকেট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। ঠিকানা পরিবর্তন হলে নতুন করে নিবন্ধন না করে বিদ্যমান সনদের ঠিকানা সংশোধন করুন। তথ্যে ভুল থাকলে সংশোধনের আবেদন করুন — নতুন আবেদন কখনোই সমাধান নয়।
- সনদের একটি স্পষ্ট ফটোকপি ও মোবাইলে ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করুন
- NID, পাসপোর্ট ও শিক্ষা সনদে একই জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করুন
- পরিবারের সবার সনদের নম্বর একটি নিরাপদ জায়গায় লিখে রাখুন
প্রশ্ন: শিশুর ক্ষেত্রে কি ডুপ্লিকেট হতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ, হাসপাতাল ও বাড়ি — দুই জায়গা থেকে আবেদন হলে এমন হয়। শিশুর নিবন্ধনের সময় একটি আবেদনের রসিদ সংরক্ষণ করুন।
বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন ২৪.৮৮ কোটি ছাড়িয়েছে, যেখানে জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি (অক্টোবর ২০২৬-এর সরকারি তথ্য)। অর্থাৎ বিপুল সংখ্যক মানুষের একাধিক জন্ম নিবন্ধন সনদ রয়েছে — কখনো ভুলে, কখনো ঠিকানা পরিবর্তনে, কখনো তথ্য সংশোধনের চেষ্টায়।
আগের নিয়ম বনাম বর্তমান নিয়ম
আগে নিয়ম ছিল — একাধিক সনদ থাকলে প্রথমটি রাখতে হবে, বাকিগুলো বাতিল। কিন্তু ২০২৩ সালের ৫ জুলাই রেজিস্ট্রার জেনারেলের নির্দেশনার পর নিয়ম বদলেছে: এখন আপনি পছন্দের সনদটি রেখে বাকিগুলো বাতিল করতে পারবেন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
- NID, পাসপোর্ট বা চাকরির কাগজে যে নম্বর ব্যবহার করেছেন, সেটিই রাখা জরুরি
- ভুল নম্বরের সনদ বাতিল না করলে ভবিষ্যতে যাচাইয়ে জটিলতা হতে পারে
- এক ব্যক্তির একাধিক সক্রিয় নিবন্ধন ডুপ্লিকেট-বিরোধী নিরীক্ষায় সমস্যা তৈরি করতে পারে
বাতিলের প্রক্রিয়া (সাধারণ ধাপ)
- যে সনদটি রাখতে চান, সেটি চিহ্নিত করুন (যেটির নম্বরে NID/পাসপোর্ট ইস্যু হয়েছে)
- সংশ্লিষ্ট জন্ম নিবন্ধন অফিসে (ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি করপোরেশন) আবেদন করুন
- বাতিলযোগ্য সনদগুলোর কপি ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ আবেদন জমা দিন
- অফিস BDRIS সিস্টেম থেকে অতিরিক্ত নিবন্ধন বাতিল করবে
- বাতিলের প্রমাণ/রসিদ সংরক্ষণ করুন
সতর্কতা
- বাতিল করার আগে নিশ্চিত হোন কোন নম্বরে আপনার NID, পাসপোর্ট, ব্যাংক হিসাব বা শিক্ষা সনদ ইস্যু হয়েছে
- একবার বাতিল হলে সেই নম্বর আর ব্যবহার করা যাবে না
- কোনো দালালকে টাকা দেবেন না — এটি সরকারি অফিসের নিয়মিত কাজ
সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: আমার দুটি সনদে জন্ম তারিখ ভিন্ন — কোনটা রাখব?
উত্তর: যেটির তথ্য আপনার NID/পাসপোর্ট/শিক্ষা সনদের সাথে মিলে, সেটি রাখুন। অমিল থাকলে আগে সংশোধন, তারপর বাতিল।
প্রশ্ন: বাতিল করতে ফি লাগে কি?
উত্তর: বাতিল প্রক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট ফি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত নয়; সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে জেনে নিন। অযৌক্তিক ফি দাবি করা হলে grs.gov.bd-তে অভিযোগ করা যায়।
তথ্যসূত্র: The Business Standard (multiple-certificate rule, July 2023); digibanglatech.news (248.8M figure, Oct 2026)। শেষ যাচাই: 15 Oct 2026।